ভাঙ্গা প্রতিনিধি-
ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজন সহ নিহত হয়েছে পাঁচজন। নিহতরা ডাক্তার দেখাতে ফরিদপুরে আসছিলেন বলে জানা যায়। নিহত সকলেই অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রী ছিলেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে।
নিহতরা সকলেই মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
নিহতদের পরিচয়,
আলমগীর হোসেন ও তার ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন। তাদের দুজন স্ত্রী খুরশিদা বেগম ও মাজেদা বেগম এবং অ্যাম্বুলেন্সের চালক কাওছার হোসেন।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন অসুস্থ থাকায় এম্বুলেন্সে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে ফরিদপুরে ডাক্তার দেখাতে আসতেছিলেন। অ্যাম্বুলেন্সে আলমগীর ও তার ভাই এবং তাদের স্ত্রীদের নিয়ে আসছিলেন।
পথিমধ্যে রোববার (২৪ মে) বেলা পৌনে এগারোটার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের জেলার নগরকান্দা উপজেলার শংকরপাশা নামক এলাকায় পৌঁছালে ফরিদপুর থেকে ঢাকাগামী বিআরটিসি পরিবহনের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সের চালক সহ পাঁচ জন মারা যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা এসে উদ্ধার করে। পরে সেখান থেকে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানায় মরদেহ গুলো নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, বিআরটিসি বাস একটি ভ্যান কে ওভারটেক করতে গেলে বিপরীত দিক থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহগুলো ভাঙ্গা হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে। কি কারনে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসুল সামদানী আজাদ জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ভাঙ্গা হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে। মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর ও মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়েই দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এবং ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় সড়কে যানবাহন আটকা পড়া সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। মরদেহ গুলো প্রথমে ভাঙ্গা হাসপাতালে এবং পরে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়। মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতদের দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য আর্থিকভাবে সহায়তা করা হবে। এছাড়া এই ঘটনায় দায়ী কে সে বিষয়টিও তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনান্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।