
আব্দুল মান্নান, ভাঙ্গা প্রতিনিধি-
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক মালয়েশিয়া প্রবাসী মনির হোসেনের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন মা-বাবা ভাই-বোন মিলে। ২৫ বছরের কষ্টাজিত অর্থের হিসাব চাওয়ায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন পিতা হান্নান মুন্সি। এছাড়া পিতা হান্নান মুন্সি শুধু মামলা দিয়েও ক্ষ্যান্ত হননি, মনির হোসেনের স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। এসব অভিযোগ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন পুত্র মনির হোসেন। তিনি বলেন, পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র নিরাপদ স্থান বাবা-মা। সেখানেই পুত্রের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করেছেন পিতা ও তার সন্তানেরা। তার পর একটি মিথ্যা মামলা ঢুকিয়ে দিয়েছেন। সেই মামলা নম্বর ভাঙ্গা সি,আর ৪৮১/২৫, ধারা ৩২৩/ ৩০৭/৩৮০।
প্রতারণার শিকার মালয়েশিয়া প্রবাসীর বাড়ি ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের পীরেরচর গ্রামের হান্নান মুন্সীর পুত্র মনির হোসেন।
পরিবারের সদস্যরা একত্রে হয়ে পুত্র মনির হোসেনের জমি-জমা, নগদ টাকা ও ফ্লাট আত্মসাৎ করেছেন পিতা হান্নান মুন্সি, মাতা রিজিয়া বেগম, বোন মাকসুদা বেগম ও ভাই আক্তার মুন্সি সহ একটি কুচক্রী মহল।
এ বিষয় প্রবাসী মনির হোসেন অভিযোগ করেন বলেন, আমি ২৫ বছর ধরে মালেশিয়া প্রবাসে থাকি। আমার কষ্টজিত অর্থ আমার বাবা হান্নান মুন্সি ও বোন মাকসুদা বেগমের ইসলামী ব্যাংকের একাউন্টে লক্ষ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছি। ২০২২ সালে আগস্ট মাসে বাংলাদেশে আসিয়া পিতা ও বোনের নিকট টাকার হিসাব চাই।
টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে আমার উপর পরিবারের লোকজন একত্র হয়ে অমানবিক নির্যাতন করে। বিভিন্ন গুন্ডাবাহিনী ভাড়া করে আমাকে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করে। আমি টের পেয়ে মালেশিয়া চলে আসি। এরপর আমি ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ইউএস বাংলা এয়ারলাইন ফ্লাইট যোগে বাংলাদেশে চলে আছি এরপর ঐ মাসে ৩১ জুলাই ২০২৪ সালে আবার মালয়েশিয়া চলে যায়।
আমি মালয়েশিয়া আসার ৩দিন পর আমার পিতা হান্নান মুন্সি বাদী হয়ে ফরিদপুরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমার নামে ও আমার স্ত্রী নাজনীন আক্তারের নামে হয়রানি মুলক একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে ঐ মামলায় টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আমার স্ত্রী ওই মামলায় হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন।
পিতা শুধু মামলা করেও ক্ষ্যান্ত হন নাই এরপর আমার বাবা মা ভাই বোন মিলে আমার স্ত্রী ও সন্তানকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে।
আমার কষ্টার্জিত লক্ষ লক্ষ টাকা আমার জীবনে শত্রু হয়ে দাঁড়ালো।
বর্তমানে আমার স্ত্রী প্রায় দুই বছর ধরে তার বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন। আমি প্রবাসে বসবাস করছি। আমার ও আমার স্ত্রী নাজনিন আক্তারের জীবনে কোন দূর্ঘটনা ঘটলে এর জন্য আমার বাবা-মা, ভাই-বোন সহ কুচক্রী মহল আইয়ুব মাতুব্বরকে দায়ী করবো ।
আমার মামলার যে কয়জন সাক্ষী মেনে আদালতে মামলা করেছেন সেই সকল সাক্ষীদের নিকট জিজ্ঞাসা করলে তারা এই মামলা সম্পর্কে কিছুই জানেন না জানান এবং মামলায় যে তাদের নাম দেওয়া হয়েছে সেই বিষয়ে তারা অবগত নয়।
প্রবাসী মনির হোসেন আরো অভিযোগ করেন, আমি মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসলেই আমার নামে ও আমার স্ত্রীর নামে আরো হয়রানি মূলক মামলা দায়ের করতে পারে। তারা আমার জায়গা জমি ফ্লাট ও টাকা পয়সা আত্মসাৎ করার জন্য আমাকে মেরে হুমকি দিচ্ছেন এবং আমাকে মেরে গুম করার জন্য লোক ভাড়া করেছেন।
আমি পীরেরচর গ্রামের বাড়িতে যে ঘরে থাকি সেই ঘরটিও তালা মেরে দিয়েছেন। ভাঙ্গা কলেজপাড়ে যে ফ্ল্যাটটি ক্রয় করেছি। সেই ফ্ল্যাটটি আমার পিতা ও বোন মিলে দখল করে রেখেছেন।
আমি ক্রয়কৃত ফ্ল্যাটের কাছে গেলে আমার পিতা ও বোন এবং হুন্ডা বাহিনী দিয়ে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন । আমি ও আমার স্ত্রী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এর আগে ২০২২ সালে ১৪ ডিসেম্বর তারিখে আমার ভাই আক্তার মুন্সী মালেশিয়ায় গুন্ডাবাহিনী ভাড়া করে আমাকে মারধর করে হত্যার চেষ্টা করে। ওই ঘটনা আমি পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলে পুলিশ তখন আমার ভাই আক্তার মুন্সিকে গ্রেফতার করে।
এ বিষয় কয়েকজন সাংবাদিক সরেজমিন গিয়ে এবং আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ম, ম সিদ্দিক মিয়া নিকট জিজ্ঞাসা করলে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমার কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন প্রবাসী মনির হোসেনের স্ত্রী নাজনীন ডাক্তার। আমি ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে বাদী ও বিবাদীদের নোটিশ করে আমার ইউনিয়ন পরিষদে হাজির করি। তাহাতে দেখা যায়, প্রবাসী মনিরের হোসেনের হান্নান মুন্সী কারো প্ররোচনায় পড়ে এবং পুত্রের প্রতি রাগান্বিত হয়ে পুত্র মনির হোসেনের টাকা ও জমি ও ফ্লাট দখল করে আত্মসাৎ করার পায়তারা করছেন। তাছাড়া ছেলে মনির হোসেন ও পুত্রবধূ নাজনীন বেগমের এর বিরুদ্ধে ফরিদপুর আদালকে যে মামলাটি দায়ের করেছেন। উক্ত মামলায় আমি তদন্ত করি এবং আমার কাছে এই মর্মে প্রতিমান হয় যে, পুত্র ও পুত্রবধুর নামে যে মামলাটি করেছেন তাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। প্রবাসী মনির হোসেন একজন ভালো মানুষ। সে কোন মাদক কারবারের সাথে যুক্ত নন। মনির হোসেনের নামে যে মামলাটি করেছেন। তার ঘটনার সময় ও তারিখ বর্ণনা অনুযায়ী মনির হোসেন তখন মালয়েশিয়ার অবস্থান করেছিলেন। এতেই বোঝা যায় পিতা অন্যের প্ররোচনায় পড়ে পুত্রের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এবিষয় অভিযুক্ত পিতা হান্নান মুন্সি বলেন, আমি কোন টাকা পয়সা আত্মসাৎ করি নাই। আমার পুত্র মনির হোসেন ও পুত্র বধু আমাকে হুমকি দেওয়ার কারণে আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।
তাই প্রবাসী মনির হোসেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রবাসী ও বৈদেশিক কল্যাণ মন্ত্রী, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ফরিদপুর, ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভাঙ্গা থানার ওসির হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তিনি।
২৩/০৩/২০২৬