
আব্দুল মান্নান, ভাঙ্গা করেসপনডেন্ট,
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক কিশোরীকে শ্লীলতাহানির ঘটনার মূল্য বিশ হাজার টাকা রায় দিয়েছেন স্থানীয় সালিশ বর্গের ।
শ্লীলতাহানি ঘটনাটি ঘটেছে ভাঙ্গা উপজেলার মুনসুরাবাদ গুচ্ছ গ্রামে ভ্যানচালক সুমন মিয়ার ৬ষ্ট শ্রেণির কিশোরী কন্যার সাথে।
গতকাল (৩ মে) রাত ৯টার দিকে এঘটনায় অভিযুক্ত গ্যারেজ মিস্ত্রী দেলোয়ারকে (৫৫) ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন মাদবরেরা ।
এরায় শুনে ভুক্তভোগী সহ স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অভিযুক্তর শাস্তি দাবি করছেন।
এদিকে শ্লীলতাহানীকে পুঁজি করে স্থানীয় মাদবর সহ বিভিন্ন লোকজন অভিযুক্ত দেলোয়ারের নিকট থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, জগন্য অপরাধকারী দেলোয়ারের শাস্তি দাবী করছি। তবে কিছু লোক মিমাংশা করে দেওয়ার নামে
অভিযুক্তকে ভয় দেখিয়ে প্রায় ৫০/ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভাঙ্গা সহ আশপাশ এলাকায় টক অফ দা টাউনে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে কিশোরী কন্যা বলেন, আমরা বাবা, দাদী সহ আমার পরিবারের লোকজন গুচ্ছ গ্রামের একটি ঘরে বসবাস করি। আমাদের লোকসংখ্যা বেশি বিধায় আমার সম্পর্কে দাদা দেলোয়ারের সরকারি ঘরে আশ্রয় দেয়। আমার বাবা দেলোয়ারের নিকট থেকে একটি ভ্যান গাড়ী ভাড়ায় চালিয়ে সংসার চালাই, এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মা অসুস্থ নানী বাড়িকে থাকে।
আমি গুচ্ছ গ্রামের বাবাকে নিয়ে ঐ ঘরে একা থাকি। এই সুযোগে রাতে দেলোয়ার প্রায়ই আমার ঘরে ঢুকে কু-প্রস্তাব দেয় ও আমার সাথে খারাপ কাজ করতে জোরাজুরি করে এবং আমাকে প্রলোভন দেখায়। আমি দেলোয়ার কথা না শুনলে আমার বাবাকে ভ্যান গাড়ি ভাড়া দিবেন না বলে হুমকি দেয়।
ঘটনা দিন গত ২৫ এপ্রিল রাত অনুমান দশটার দিকে দেলোয়ার আমার ঘরে ঢুকে জোর পুর্বক
আমার জামা কাপড় খুলে খারাপ কাজ করার চেষ্টা করে। আমি চিৎকার দিলে আর পাশের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে।
ভুক্তভুগির দাদি ও চাচা বলেন, এই ঘটনার পর এলাকায় জানাজানি হয়ে পড়ে। আমাদের মেয়েরকে বিয়ে দিতে হবে। তাছাড়া আমাদের পূর্বের বাড়ি পার্শ্ববর্তী জেলায়। আমাদের জায়গা জমিন – ঘর দরজা না থাকায় ভাঙ্গার মুনসুরাবাদ এলাকায় একটি সরকারি ঘর পাই এবং সেখানে বসবাস করি।
এখানে আমাদের আত্মিয়-স্বজন না থাকার কারণে স্থানীয় লোকজন আমাদেরকে হুমকি দিতে থাকে এবং বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে। তাদের কথা না শুনলে আমাদেরকে ঘর ছেড়ে এবং এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয়। স্থানীয়দের ভয়ে আমরা মামলা করতে সাহস পাই নাই।
গতকাল রবিবার (৩মে) রাত নয়টার দিকে আমাদেরকে ডেকে স্টাম্পে সাক্ষর নিয়ে ১০ হাজার টাকা ধরিয়ে দেয় এবং আরো দশ হাজার টাকা দিবে বলে জানায় । মাদবরদের বিচার না মানলে এবং বাড়াবাড়ি করলে এলাকা ছাড়া হুমকি দেয়। আমি এই বিচার মানি না। আমাদের উপর অন্যায় করা হয়েছে।
অভিযুক্ত দেলোয়ার বলেন, আমাকে ফাঁসানো হয়েছে আমি ষড়যন্ত্রের শিকার আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
এবিষয় মুনসুরাবাদ গুচ্ছ গ্রামের সভাপতি কাসেম মিয়া বলেন, গতকাল রাতে আমরা স্থানীয় লোকজন বসে সালিশ করে দেলোয়ার কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে দিয়েছি। তখন কিন্তু এই মেয়েটির দাদি, বাবা, চাচা সবাই উপস্থিত ছিল। তখন দরবার মেনে নিয়ে এখন বলছে সালিশ মানি না। এগুলো তো ঠিক নয়।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানায় কেউ অভিযোগ দিতে আসেন নাই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
০৪/০৫/২৬
০১৭৭৭৭৭৭৮১৩৩